লোকশোলক - সুবীর সরকার পাঠ পর্য্যালোচনা | অন্তর চন্দ্র
মনোলোকের স্বাপ্নিক নিয়মের মতো ঢুকে পড়ি গদ্যে। লোকগানের আসরে। গানের ভিতরে প্রাণের আর্তি। এককেটি লাইন একেকটি পূর্ণ জীবনের সন্ধ্যানে ঘুরে ফিরে আসে। আর গদ্যের মাঝে অতিসুন্দর উপমা নন্দনতত্ত্বের নান্দনিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। সুবীর সরকারের 'লোকশোলক' প্রত্যান্ত অঞ্চলের মানুষের যাপনের সাথে মিশে ভিন্নমাত্রায় অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে। মাহুতবন্ধু যখন হাতি নিয়ে মনের অজান্তে সুর তোলেন, গাড়িয়াল গান ধরেন, কুশানপালার হুল্লোড়ে হালুয়ার পেন্টি বাঁশিতে রূপান্তর হয়, লোলজি রাজা দোতরায় জীবন সাজান, তখন আমি জীবনের সারাৎসার খুঁজি।
তিনি দুই বঙ্গকে ভাগ করতে চেয়েছেন, আসলে এর ভাগ হয় না। ভাগ করাটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। জনজীবন যখন একটা গণ্ডিতে থমকে দাঁড়ায় একরৈখিক সত্যের পথে যাত্রা শুরু করে তখন আমাদের আকাশ, বাতাস, মাটি ভাগ করে নিতে হয়। কখনো কখনো ফিরে যেতে হয়, পূর্বাত্মার খোঁজে নিজের অস্তিত্বের সন্ধ্যানে।
'লোকশোলক' মানুষের সেই মাত্রার কথা বলে যেখানে শিকড় থেকে শিকড়ের দিকে অগ্রসরমান মানুষের প্রতিদিনের আর্তিকে একটা পরিস্ফুট অংশীদার করে। সুবীর সরকার তারই সুবিন্যস্ত রূপ দেয়ার চেষ্টা করেছেন।
◾গঞ্জহাটের কোরাস:
মেলাবাড়ির কাহিনীকে ঘিরে উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর জংলি হাতির পায়চারি। চা শ্রমিক আন্দোলনের প্রবাদপ্রতিম বাবুলাল এক্কার জীবনের ভয়াবহ ঘটনাকে প্রেমে রুপান্তর করার দুঃসাহস। লেখক তাঁর ধী- সত্তাকে ভিন্নমাত্রায় প্রকাশ করেছেন। গ্রামগঞ্জের মেলাকে কেন্দ্র করে রাত গভীরে জঙ্গল দিয়ে বাড়ি ফেরা। আন্দু বস্তিতে পার্বতী বড়ুয়ার হাতি বিষয়ক গল্প, চিত্র পরিচালক সুখেন্দু নন্দী , লোলজি রাজা এবং তাঁর মেয়ে প্রতিমা বড়ুয়ার গান সব মিলেমিশে মনের গহীনে আলাদা একটা ছাপ ফেলেছে এই গদ্যটি। হাতির আক্রমণকে বন্ধুত্বের রূপ দেওয়া এক যুবকের লীলাময় ঘটনা। জনবসতিপূর্ণ পৃথিবীর দিকে চেয়ে লেখকের দৃষ্টি, যখন অবলা পশু-পাখীদের বনজঙ্গল গ্রাসে মানুষ ক্রমশ এগোচ্ছে, ঠিক তখনই প্রতিবাদ করে দাঁড়াচ্ছে একদল হাতি। "সে নিজে থেকে কাউকে আক্রমণ করে না। মানুষের লোভেই হাতিদের চলাফেরার রাস্তায় বাড়িবসতখেতখেতি গড়ে উঠেছে, জঙ্গল চুরি হয়ে যাচ্ছে। খাবার নেই হাতিদের। তা এই অবলা জীবেরা তবে যাবে কোথায়!"¹ এই ভাবনাকে চিত্রায়িত করে, বনদস্যুদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝংকার ওঠে। আমাদের জীর্ণশীর্ণ চিত্তে জাগরণের গান শোনান। লেখক বলতে চান, পৃথিবীটা সবার হোক।
◾ওকি ও বন্ধু কাজল ভোমরা রে
ভাওয়াইয়া বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলের প্রাণের সাথে মিশে আছে। হাজার বছরের সংস্কৃতির আশ্রয়ে এই জনপদের যাপন। গাড়িয়াল বন্ধু, মাহুত বন্ধু, মইষাল বন্ধু, প্রেম - বিরহ, পরকিয়া, হুদুম দ্যাও, সাইটোল পূজা ইত্যাদি নিয়েই মানুষের কত মায়া। মুখে মুখে ভাওয়াইয়ার সাধ। সুরেন বসুনিয়া প্রথম ভাওয়াইয়ার রেকর্ড এবং পরবর্তীতে আব্বাস উদ্দিন, নায়েব আলী টেপু, কেদার চক্রবর্তী, প্যারিমোহন দাস, কেশব বর্মণ, প্রতিমা বড়ুয়া প্রমুখের মধ্যে দিয়ে সর্বজনীনতা। লেখক তোর্ষা নদীর পাড়ের মানুষ। যেখানে ভাওয়াইয়ার নিত্য - নতুন চাষ হয়। সেই শিল্পের একজন কর্মী তিনি। নিজেকে ডুবিয়ে দেন তোর্ষার ভালোবাসার স্রোতে এবং প্রাণের আর্তিকে জনসমুদ্রে বিলিয়ে দেন। দুইবঙ্গের উত্তরবাংলাকে দুইভাগে বিভক্ত করেছেন, যদিও একই সংস্কৃতির ধারক এবং বাহক। তিস্তাবঙ্গ আর গৌড়বঙ্গ। বাংলাদেশের উত্তরজনপদকে তিস্তাবঙ্গ আর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তরজনপদকে তোর্ষাদেশের মানুষ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এবং এই ভূখণ্ডের কাজল ভোমরা হয়ে আমাদের মাঝে স্মৃতিচারণ করেন।
◾সোনার বরণ পাখি:
'কুশানপালা' রামায়ণকে কেন্দ্র করে রচিত পদের গুণকীর্তন। উত্তরের সবচেয়ে সেরা পালাগুলির একটি। গ্রামে-গঞ্জে এই পালার আসর বসে। সাধারণত, শীতের সময় রাত ভর্তি ভালোবাসা নিয়ে ক্লান্তি-শ্রান্তি বিসর্জন দিয়ে সুচারু আমেজ মুখর। নাচনেওয়ালী চানবালা সুন্দরী সেই দলের লোক। রাতের রূপসী রূপে তাঁর আগমন মঞ্চের কোমর দোলায়। প্রতিটি রাত তার কাছে একেকটি উৎসব। বাউদিয়া মুকুন্দের বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান। এবং শেষ বয়সে এসে দুঃখের জীবন।
এদিকে নদীরাম বর্মণ নিজের আত্মলব্ধির জীবন উপভোগ করে। "বহুমাত্রিক বিন্যাসপ্রকল্পের স্থানিক উচ্চারণরীতির মতো।"² পূর্ণ করতে চান নিজকে কোন স্বপ্নের দ্যোতনায়। আঞ্চলিকতা অতিক্রম করে আবারও আঞ্চলিকতায় ফিরে আসার একটা আবেক লক্ষ্য করা যায়। অতঃপর, জীবনের প্রান্তিক দৃশ্যাবলীকে আঁকড়ে থাকার চেষ্টায় মগ্ন হন। কোন ক্ষণমূহূর্তের রহস্যের আবর্তনে।
প্রকৃতির লীলাময় আহবে গঙ্গাধর যেন লেখক মনের পোষমানানো ভালোবাসা। আর সেখানেই নাজিমুদ্দিন ওস্তাদ গোয়ালপাড়ার মন্ত্রমুগ্ধ সুর তোলেন। রতিকান্ত বয়াতির গালায় দোতরার তাল। লেখক সেই সুরতাললয় ঘিরে জীবনের পরম লক্ষ্যে পৌঁছানোর আর্তি পেশ করেন। প্রেম-সংসার-সন্ন্যাস হাটগঞ্জের মিশ্রিত জীবন নিয়েই চক্রবূহের আবিষ্কার হয়। চানবালা, মুকুন্দ, নদীরাম, রতিকান্তের মতো মানুষের সেই চক্রবূহে একেকটি আঁধারের লয় হয়।
◾মাসুদমঙ্গল
একাকীত্ব যখন জেঁকে বসে শীতের শরীরে চাদরের মতো, তখন সুবীর সরকার মাসুদমঙ্গল বলে শোনান। পড়তে পড়তে চোখে জল এসে গেল। তাঁর গদ্যে চিরচেনা জীবনসংগ্রাম কবিতার পঙ্ক্তির মতোই উঠে আসে। কাব্যপ্রেমিক যুবকের ব্যার্থতার দিনলিপিকে খুব সচেতনভাবে তুলে ধরেছেন। প্রতিটি শব্দ বুঁদ করে রাখে। মাথার ভেতর মাসুদমঙ্গল পল্লীগ্রাম থেকে শহরের ভূখণ্ড ছুঁয়ে আবারও গুছিয়ে নেয় অজান্তা সংলাপ। জীবনের সাথে কবিতার অদৃশ্য উপভোগ ক্রোমে জ্যান্ত প্রতিমার আদলে গড়ে ওঠে! মাসুদ শুধু নিজের ব্যর্থ জীবনের ব্যক্ত করেননি বরং একটা সমাজের মানচিত্রে মৃত্যুর পঙ্ক্তিগুলো কাঁধে করে কি করে বাঁচতে হয় তা শিখিয়েছেন। আবুল হোসেনের কবিতা পাগল ছেলেটা নিজেও কবির মতো একাকীত্বে জড়িয়ে গেল। উপহার পেল ব্যর্থতার এক নান্দনিক জীবন। রাজশাহী, লালমনি, কুড়িগ্রাম, কুষ্টিয়া, হিলি, দিনাজপুর, নীলফামারী, মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর আর ইমামার অর্বাচীন স্বপ্নের অদ্যপ্রান্ত জুড়ে মাসুদের জীর্ণ জীবনের ম্লান ইতিহাস। অনন্তের আয়োজনে মাসুদের 'অবাঙমানসগোচরম্' জীবনের দু-চারটি কথা বুকের কাছে থৈ তুলে যায়।
◾সোনাপাড়া সোনাপাড়া
কবি মাসুদার রহমান মানসিক অসুস্থতা নিয়েও কবিতাকে ছাড়ার কথা কোনদিন ভাবেননি বরং কবিতাকে নতুনত্বের প্রাণ দিয়ে গেছেন। ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশের নানাপ্রান্ত। দেখেছেন জীববৈচিত্র্যের মাঝে প্রকৃতির লীলাময় ঘটনা। আর সেগুলোই পরবর্তীতে কলমে কলমে আস্তেপৃষ্টে গেছে । তুচ্ছ জীবন পাড়ি দিয়ে অমৃতের সন্ধানে কবিতাকে কুড়িয়ে কুড়িয়ে ছান্দসিক জীবনের পরম লক্ষ্যে পৌঁছানোর নেশায় মত্ত হয়ে, বিষ্ময়কর হয়ে উঠেছেন। গদ্যের ঝলকে নানান গ্রন্থ ও লেখকের সাথে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া পাঠকের পক্ষে আনন্দের। ক্লান্তি-শ্রান্তি বিসর্জন দিয়ে পাঠে মনোযোগের দৃঢ়তা স্থায়ী হয়েছে। নিঃসঙ্গতার মাঝে মাসুদার কবিতার সন্ধিৎসু। "মাসুদার কি বুঝে গেছে কবিতা লেখার এই জীবন; জীবনে নিমজ্জিত এই জীবন কোথাও পৌঁছে দেবে না তাকে।"³ হতাশার জায়গাগুলো যখন বেড়ে যায় কবিতা তখন প্রখর হয়ে ওঠে! কবি মনের ভিতর দোলা দিতে থাকে অন্য এক নৈরাজ্য। আর সেখানেই কবির সান্নিধ্য। মাসুদার রহমান অসুস্থ পৃথিবীর বুকে নিজেকে সক্রিয়তার গতিবেগে সোনাপাড়াকে কবিতামহল করে তুলেছেন। দিয়েছেন, ঘাসের জীবন।
◾ও মোর গণেশ হাতির মাহুত রে
মাহুতবন্ধু থেকে শুরু করে, জোতদার, বাউল, পীরসাহেব সবকিছু ঘিরে নান্দনিক গদ্য। সৃজনশীলতার বহুরৈখিক ছাপ। মনোজগতের ভিতর ঢুকে যায়। জন্মমৃত্যুর রহস্যাবৃত্তে জীবন পরিধির মিটার বসিয়ে কিছু মুখ তুলে নেন। "মৃত্যু আসলে ঝুলন্ত সেতু। ফাঁকা মাঠে জিপসি তাঁবু। তাঁবুমহল্লা।"⁴ মৃত্যু নিয়ে অনেক পড়েছি কিন্তু গদ্যে এরকম উপমা সত্যিই নন্দনতত্ত্বের ঘোরে নিজেকে জানান দেয়। একে একে উঠে আসে, শাসন ত্রাসের দিনের অবসানে নতুন কোনো যুগের সার্থকতা। লেখকের ভাষায়..."সাহেবের হ্যাট থেকে উড়ে আসা সেই অভিজাত সময়কে জুম করলে আমরা দেখতেই পাব একটা ইতিহাসের ভাঙা টুকরো জুড়ে জুড়ে অন্য এক ইতিহাস। ইতিহাসেও ইতিহাস।"⁵ আবারও ভাবতে শেখায় নতুন কিছু। তেভাগার ঘোর থেকে উত্থান। হাতির পিঠে আরোহণ। ম্যাজিক। মাজার। বাউলের আখরা। এক্কেবারে স্মৃতিবাহিত রোগ। অথবা কিছুই নয়। "আয়ুষ্কাল ফুরিয়ে যায়, মানুষ ফুরোয় না।"⁶ জীবনের গুচ্ছ গুচ্ছ প্রেম লেখক জমিয়ে রাখেন স্মৃতিরপকেটে। ধীরে ধীরে কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কলম জাগ্রত হয়। মাজারে পীরসাহেবের যাদুবিদ্যার কুহক খোলস, অশিক্ষা, দীন, মলিন করে দেয়। লেখক জনমানুষের চিত্তে জাগরণের মন্ত্র দেন। প্রকৃতির কাছে নিজকে মেলে ধরেন। ডাকাত থেকে মানুষ হওয়ার পূর্ণজীবন আকাঙ্ক্ষা করে সুবলসখা। কীর্তনের আসরে বসে। জীবনকে জীবনের সাথে মিশিয়ে পরহিতব্রতি শেখায়। স্বচ্ছ জীবনের অন্তরালে বয়ে চলে অব্যক্ত কোন বহতা। মাহুতবন্ধুর শব্দের ভেতরে শব্দাতীত জীবনের।
◾উত্তরকথা
উত্তরজনপদের প্রাণের আর্তিতে মিশে আছে ভাওয়াইয়া। মানুষের দুঃখ, কষ্ট, ভালোবাসা ঘিরে জীবনের সারাৎসার। লেখক সেই ভাবনাকে আপন চিত্তে রূপের জলসা খেলায় আকাশের সীমানার অভ্যন্তরে প্রকাশ করেছেন। কিছু ব্যথিত কল্পকাহিনীর ঘোরে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা। লোকগীতির ছকে ছকে জীবনদর্শন যেন সোমেশ্বরীর অর্বাচীন দুঃখের ফেরিওয়ালা। এরই মাঝে আত্মভর বেঁচে-বর্তে সুন্দরের গুণকীর্তন। গদ্যের স্তরে স্তরে পুরোনো লোকগানের সংযোজন আরও সাফল্যমণ্ডিত করে তুলছে লেখক সত্তাকে। রাধাকান্ত বাবুর সাশ্রুসজলনয়ন, সোমেশ্বরীর প্রাণের আর্তি, কুশানপালার হুল্লোড়, হালুয়া, জালুয়া, মাহুত, মইষাল, নদীর শীতল পরাণ গদ্যের নৈকট্যের ছেঁড়াতারগুলি জোড়া দেয়। উত্তর পরিমণ্ডলের সর্বজনবিদিত কথা বাতাসে ভেসে আসে। লোকমুখে সোনালী উৎসব হয়ে ধরা দেয়। দোতরার আবেগ লাগানো ধাঁধায়। “আচ্ছা, মানুষ বাঁচে কেন! আস্ত এক জীবন নিয়ে জনমভর কী করে মানুষ!”⁷ এই প্রশ্ন থেকে যায় মনের গহীনে। লেখক এখানে সুচারুভাবে উত্তরজনপদের বাস্তব জীবনের দর্শন ব্যক্ত করেছেন।
◾মাহুত বন্ধু
গৌরীপুরের লোলজি রাজার মেয়ের প্রিয় হাতির মৃত্যু হলে সমাধি দেয়া হয়। অথচ রাজকুমারীর মনে বাল্যস্মৃতির সেই হাতি। হাতির পিঠের একটুকরো বিকেল। দোতরার আবেগ। মাহুতবন্ধু গান। গোয়ালপাড়ার গান। গৌরীপুর। হাতির জন্য যতটা দরদ পদ্মশ্রী পুরস্কার পাওয়ার পরেও তার মনে অতটা আনন্দ ছিল না। তিনি জীবনকে একটা সূত্রে বেঁধে রাখতে চেয়েছিলেন, যার কোন দ্বিতীয় হয় না। এখানে একটু ব্যতিক্রম দ্যোতনা লক্ষ্য করা যায়। লোলুপ বাসনার উর্ধ্বে নিজেকে মেলে ধরা। এবং দেদ্যুল্যমান জীবনের সাথে মিশে কন্ঠে সুরতাললয় ঘিরে রাজকুমারী থেকে হয়ে ওঠেন হস্তিরকন্যা। আর এখানেই মাহুতবন্ধুর সার্থকতা।
◾গৌরীপুরের পান আর গোলকগঞ্জের গুয়া
একজন এমএলএ-র ভোটের প্রচারণা ছেড়ে গান-বাজনায় বুঁদ হয়ে বসে থাকা। ভোটের মিটিং করতে গিয়ে গানের আসর এবং অবশেষে জয় লাভ করা। একটা ধাঁধায় ফেলে দেয়। গৌরীপুরের সাঁচি পান আর গোলকগঞ্জের গুয়া রসোলোকের সাথে যুক্ত হয়ে লোকমান পাগেলার কাছে ধরা দেয়। হাটেবাজারে হকারি গিয়াস হেকিমের চিরচেনা জীবনসংগ্রাম। অথবা, পালাগানের অভিনেতা রাজু চোরা থেকে যতীন ডাকত, বসন্ত মালি , ইয়াকুব ব্যাপারী গঙ্গাধরের পাড়ে মাটির গানের আসর। গানের জগতে প্রবেশ করে কোন অদৃশ্য আত্মভোলা।
_________________________
আজকাল বই পড়ার অভ্যাসটা প্রখর হয়ে উঠেছে। বহমান জীবনের সাথে বইয়ের সখ্যতা বেশ জমে উঠেছে। এই বইয়ের জার্নিটা অন্যরকম ছিল। ঘুরে ফিরে লোকগানের আসরে ঢুকে পড়া। তিস্তা থেকে তোর্ষা। মাটির সাথে মাটির কথকতা। উত্তরবাংলার মাঠ - ঘাট, নদী-নালা, পথ-হাট সব মিলেমিশে মনের গহীনে থৈ তুলে যায় । এই বইটি পাঠের পর, আমি যেন খুঁজে পেলাম ফেলে আসা দিন ও বর্তমান অস্তিত্বের সন্ধান। যারা মাহুতবন্ধুর গান শুনতে চান, মৈষালবন্ধু কিংবা গাড়িয়াল বন্ধুর সাথে কথা বলতে চান তাঁদের জন্য এই বইটি।
বই পড়তে কার না মন চায়। আর বই যখন নিজ সংস্কৃতি নিয়ে হয়, তখন তো আরও আগ্রহ বেড়ে যায়।


0 Comments