লোকসংস্কৃতি ও মানবযোগ | অন্তর চন্দ্র








লোকসংস্কৃতি ও মানবযোগ  | অন্তর চন্দ্র



লোকজসংস্কৃতি যুগ যুগ ধরে বয়ে চলা মানুষের কালচার। শিল্প-সাহিত্য, ধর্ম, আচার-আচরণ, বেশভূষা ইত্যাদি দ্বারা সংস্কৃতির পরিচয় ফুটে ওঠে। এর সাথে যুক্ত হয় মানবযোগ। মনোজগতের পরিবর্তন এনে সুন্দরের বিচ্ছুরণ ঘটানোর সহজ পন্থা খুঁজে পাওয়া যায়। মানুষে মানুষে মিলেমিশে থাকার প্রস্তুতি লোকজসংস্কৃতির মাধ্যমে পরিণত হয়। এখানেই লোকজসংস্কৃতির সার্থকতা। তাই যুগ যুগ ধরে মানুষ সংস্কৃতির চর্চা করে যাচ্ছে এবং মানুষের মুখে মুখে রটিয়ে পড়ে লোকসংস্কৃতির ধারা বিবরণ। 

বাংলার লোকসংস্কৃতির চর্চা হাজার হাজার বছরের পুরনো। বাংলার লোকসংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখা বাঙালির একমাত্র ধর্ম হলেও বিগত দিনগুলো পেরিয়ে আমরা যত আধুনিকতার ছোঁয়ায় অভিসিক্ত হচ্ছি তত‌ই যেন নিজ আত্মার বিরুদ্ধে লড়াই করছি। লোকসংস্কৃতিকে যদি আমরা আত্মা ভেবে নিই, প্রাণ যদি হয় তার সুর, পরিণাম হয় চামড়া তবে সেই সংস্কৃতিকে বিসর্জন দেওয়া আমাদের পক্ষে সুখকর হতে পারে না। 

পথিকের রেওয়াজ থেকে পৌষ পার্বণ দোলমঞ্চের আবির দোলা হৃদয় নিয়ে যে, লোককথার আসর বসে রাতের অন্ধকারে বুড়ো-বুড়ির চাঁদ কাহিনীর সমস্ত অলীক একটা ঘোর লাগিয়ে দেয়। আজ থেকে বেশ কয়েক বছর আগে দেখেছি , পুরো গ্রামবাসি মিলে একটা বিরান পাথারে ধুমধাম করে পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে ‘পুষনা’ খাওয়ার আমেজ। ‘পুষনা’ যেটাকে এখন আমরা উত্তরের লোক পিকনিক পার্টি বানিয়ে ফেলেছি। ‘পুষনা’ যা বাড়ির বাইরে ফাঁকা মাঠে ধুমধাম করে পৌষ পার্বণের দিনে খাওয়ার আয়োজন করা হয়। একটা সময় ছিল, পুরো গ্রামবাসি মিলে আনন্দ করে ‘পুষনা’ খাওয়া হতো। কিন্তু সেই দিন এখন নেই, মানুষে মানুষে মিল নেই। ‘পুষনা'য় অংশগ্রহণ করার জন্য মা-বাবার কাছে বায়না ওসব এখন আধুনিকতার ছোঁয়া পেয়ে হারিয়ে গেছে। ‘পুষনা’ কথাটি সম্পর্কে হয়তো একদিন পরবর্তী প্রজন্ম জানবেই না। গীতিকবি নূরুল ইসলাম জাহিদ লিখেন...

‘‘ওকি হায়রে হায়, মনটায় মোর পিঠে খাবার চায়...”

সেই আমেজ এখন আর নেই। তার কারণ আমরা যারা গ্রামে বসবাস করি, তারা শহরমুখী আর যারা শহরে বাস করে তারা গ্রামীণ সংস্কৃতিকে ছোঁয়ার চেষ্টা করেন এই হলো আমাদের তফাৎ ‌। আমরা ভুলে যাই, আমাদের পূর্ণ জীবনের অনুশীলন। এ কালচারকে লক্ষ্য করে শিরদাঁড়া রেওয়াজ তোলার যোগ্যতা অনেকের আছে কিন্তু সেই জায়গাটিকে বিশেষভাবে না নিয়ে ভুল পথে অগ্রসর হচ্ছি। ঐক্যতা ভুলে নিজ নিজ স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত জীবন উপভোগ করছি। আমাদের লক্ষ্য থেকে ধীরে ধীরে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছি। এর জন্য শনির বক্র দৃষ্টির দোষ দিয়ে কেউ বেঁচে যেতে পারবেন না। কারণ যখন সব দরজা বন্ধ হয়ে যাবে তখন ঠিক পূর্ব পথেই ফিরে আসতে হবে। আপন বস্তুকে জড়িয়ে থাকা ছাড়া বাঙালির নিস্তার নেই। তবুও যারা এর বিরুদ্ধাচারণ করেন তাদের থেকে সাবধানতা অবলম্বন করাই শ্রেয়। যে নিজের সংস্কৃতি ভুলে যায় সে তার কুলধর্ম নষ্ট করে ফেলল‌‌। স্ব-সংস্কৃতিকে ভুলে যাওয়া আর নিজেকে বিকিয়ে দেওয়া মূলত এক‌ই কথা। 

জীবনের সাথে একখণ্ড জীবন খাপ খাইয়ে গড়ে ওঠে মানুষের মিলনমেলা। নানান সামগ্রীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে মানবযোগ। চিন্তা-চেতনার গভীরে গিয়ে মানসিক সত্যকে আঁকড়ে ধরে একটা ব্যঞ্জনা সৃষ্টি হতে থাকে যেখানে শিকড় থেকে শিকড়ের দিকে অগ্রসরমান মানুষের প্রতিদিনের আর্তিকে একটা শৈল্পিক আয়োজনে অপূর্ব করে তোলে। 

ঢেঁকির কথা আমরা মোটামুটি সবাই ভালো করে জানি, কয়েকবছর আগে বাড়ি বাড়ি ঢেঁকি ছিল কিন্তু সেই ঢেঁকি এখন আর খুঁজে পাওয়া মুশকিল হয়ে গেছে। একসময় ঢেঁকি ছাড়া ধান ভানার অন্য কোনো যন্ত্র ছিল না। চাউল গুঁড়া, নাস্তা, ধান ভানা আরও অনেককিছুর সাথে ঢেঁকি আত্মীয়ের মতো জড়িয়ে ছিল। আর এখন ঢেঁকির আত্মকথা লিখতে হচ্ছে।‌ ঢেঁকি যে একেবারে উঠে গেছে তা আমি বলছি না, তবে ঢেঁকি এখন দুরহ কথাটির সাথে যুক্ত হয়ে গেছে।

ঠিক তেমনি, বিয়ে বা কোন অনুষ্ঠানের বাড়িতে যাতার ব্যাবহার আর দেখা যায় না। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই যাতা’র সাথে পরিচিত নন। কারণ আমরা ইতিমধ্যেই সে সময়কে হারিয়ে নতুনত্বের দিকে ধাবিত হচ্ছি। কিন্তু সেইসাথে আমাদের জীবনের একটা অংশকে ভুলে যাচ্ছি, শুধুই অবহেলা। অবহেলা যতদিন আমাদের ভিতরে কাজ করবে ততদিন লোকসংস্কৃতির চর্চার আয়ু কমে আসতে থাকবে। তার কারণ হিসেবে দায়ী কারা? এ প্রশ্ন নিজের দিকে ছুঁড়ে দেন! এ দায় আপনার-আমার সবার নিজ নিজ অবস্থান থেকে সংস্কৃতির সাধ গ্রহণ করতে হবে। লোকসংস্কৃতি কথাটা ছোট কোন বিষয় না, এটি আমাদের জন্ম-জন্মান্তরের চিরায়ত রূপ। যুক্তসাধনা থেকে মানবযোগ সবকিছুর আত্মপ্রকাশ ঘটে থাকে সংস্কৃতির সাথে একমত হয়ে। শুধু, একটি-আধটি সংযোজন-বিয়োজন করে সংস্কৃতি রক্ষা করা যায় না। কিছু মহৎ এবং উদার হৃদয়ের প্রয়োজন আছে। সংস্কৃতির রাহুগ্রাসের কবল থেকে রক্ষা পেতে সাবলম্বী হতে হবে মানসিকভাবে। 

উত্তরবঙ্গের ভাওয়াইয়া, কুশানপালা, ভাসান পালা, জারিগান, যাত্রাপালা, ভাটিয়ালী, বিয়েরগীত, বেহুলা-লক্ষ্মীন্দর পালা, লাঠিখেলা, বাংলা সংস্কৃতির নিবেদিত প্রাণ হলেও এখন প্রায় হাড্ডিসার দশা হয়ে যাচ্ছে। কোথাও ঠিকমতো মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। কিছু লোক এখনও এই ধারাটির জন্য নিবেদিত এবং লড়াই করে যাচ্ছে। কুড়িগ্রামের কৃপাসিন্ধু রায় কুশানপালায় রাম-সীতার কাহিনী শুনিয়ে এখনো দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করছেন। ভাওয়াইয়া যুবরাজ কছিম উদ্দিনের [১৯৩৪-১৯৯২] পরবর্তী সময়ে অনন্ত কুমার দেব, নূরুল ইসলাম জাহিদ, খন্দকার মোহাম্মদ আলী সম্রাট, ভূপতিভূষণ বর্মা, ভবতরণ বর্মা, পঞ্চানন রায়, শফিকুল ইসলাম শফি, শফিউল আলম রাজা প্রমুখ এইধারাকে আঁকড়ে ধরে আছেন। কিন্তু একটা পর্যায়ে এসে তাদের দিশাহারা হয়ে নিরস হতে হয়, তবুও তারা থেমে নেই। 
সিলেটের মরমীগান, ঘাটুগান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গম্ভীরা, ফটিকছড়ির মাইজভান্ডারী, খুলনার পটগান, উত্তরবঙ্গের ভাওয়াইয়া ছাড়াও কুশানপালা, যাত্রাপালা, কীর্ত্তন, জারিগান, সারিগান, কবিগান, হোলির গীত, গাজীর গীত, মাগনের গীত, বিয়ের গীত, মুর্শিদি, মারফতি, বাউল, ঝুমুরগান, বোলান, মৈমনসিংহ গীতিকা ইত্যাদি এর প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন কমে আসছে। তবে কিছু কিছু জায়গায় আধুনিকতার ভিন্নমাত্রা যোগ হ‌ওয়ার কারণে মূল সুর হারিয়ে যাচ্ছে। তবে একদিকে তরুণদের শোনার আগ্রহ নতুন করে সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু আমরা মূলধারা থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। অন্যদিকে ছড়া, প্রবাদ, ধাঁধা ,পুঁথি-সাহিত্য, লোকনৃত্য, যাদু, বায়োস্কোপ, তন্ত্র-মন্ত্র, ব্যঙ্গ-কৌতুক, মাষানপূজা, সাইটোল পূজা, দূর্গা পূজা, হুদূর দেও, ঈদুল আযাহা, মনসামঙ্গল গানের আসর‌ লোকসংস্কৃতির সাথে জড়িত। খেলা বিষয়ক: হা-ডু-ডু, বৌ-ছি, দাড়িপাল্লা, জুতোচোর , কানামাছি ভোঁ ভোঁ, কপালটোকা, ডাঙ্গুলি, হাঁড়িভাঙ্গা, লাঠিখেলা, মোরগ লড়াই, নৌকা বাইচ, ঘোড়া দৌড়, রান্নাবাটী, মল্লযুদ্ধ ইত্যাদি একসময় প্রতিদিনের খেলার সাথে জুড়ে যেত। এখন আমরা এমন সময়ে এসে হাজির হয়েছি, খেলারমাঠ খুঁজে পাওয়া মুশকিল হয়ে গেছে। শহরে খেলারমাঠের অভাববোধ গ্রামীণ পর্যায়েও হাতছানি দিচ্ছে। এভাবেই প্রত্যেকটি বিষয় থেকে লোকসংস্কৃতির চর্চার আয়ু ধীরে ধীরে কমে আসছে। 

মোতাহের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সংস্কৃতি মানে জীবনের Values সম্বন্ধে ধারণা।’¹ জীবনকে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে চালনা করার একমাত্র উপায় হতে পারে সংস্কৃতি। এরমধ্যে অলীক কিছু নিশ্চয়ই থাকবে তবে সেগুলোকে একবারে ফেলে দেওয়া উচিৎ হবে না। আমাদের এগিয়ে যাওয়ার ধারাটির দিকে লক্ষ্য রেখে চলতে হবে। যাতে করে ভবিষ্যতে পিছুপা হ‌ওয়ার সম্ভাবনা খুব কম থাকে। নির্দিষ্ট রেখা ধরে জীবনের সারাৎসার খুঁজতে হবে। একেবারে ভেঙে পড়লে উঠে দাঁড়ানো সহজ হবে না। সময় থাকতে সচেতন হয়ে এগোনোর চেষ্টা করতে হবে। সংস্কৃতিতে যাতে কোনো রাহু-কেতুর ছাপ না পড়ে সে দিকটার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ লোকসংস্কৃতি উঠে এসে জুড়ে বসা কোনো সংস্কৃতি না, এটির সাথে মানুষের নিবেদিত প্রাণ জড়িত। হাজার হাজার বছর ধরে মানুষকে এক‌ই ছত্রছায়ায় এনে হ্যান্ডসেক করে দেওয়াই এই সংস্কৃতির মূল উদ্দেশ্য। এটি ভুলে গেলে আমাদের চলবে না। 

“বাঙালি বর্ণসংকর জাতি। বাঙালির রক্তে মিশে আছে, নেগ্রিটো, আদি-অস্ট্রেলীয় ( ভেড্ডিড) এবং মঙ্গোলীয় নরগোষ্ঠীর সংমিশ্রণ ঘটেছে বেশি।... জাতি হিসেবে বাঙালি যেমন বর্ণসংকর, চিন্তার ক্ষেত্রে বাঙালি সংকর না হয়ে পারে না।”² বাঙালির সংস্কৃতিতেও আমরা এর প্রভাব লক্ষ্য করে থাকি। ইদানিং পাশ্চাত্য কিংবা শহুরে সংস্কৃতি গ্রামীণ সংস্কৃতিকে আত্মসাৎ করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু গ্রামীণ লোকসংস্কৃতি যে এতো সহজে শহুরে সংস্কৃতির কাছে মাথানত করবে না এটিও সর্বজনবিদিত। মাটিমুখী মানুষের সুখ-দুঃখ, আবেগ, বেদনা দিয়ে তৈরি হয়েছে মানুষের প্রতি মানুষের মানবযোগ। যা পথে পথে মুখে মুখে রটে গিয়ে সকলকে একটা নির্দিষ্ট রেখায় দাঁড় করিয়ে দেয়। যেখান থেকে বাঙালি তাঁর নিজস্ব ঐতিহ্যের হিমালয় খুঁজে পান। বাঙালি যত‌ই আধুনিক হতে চায়, তত‌ই মাটিবর্তী হয়ে পড়ে। তাঁর কারণ বাঙালির অস্তিত্বের সাথে জুড়ে গিয়েছে লোকসংস্কৃতির মূলধারার যুগ-যুগান্তরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেখানেই আত্মহারা বাঙালি নিজ অবস্থান প্রাণবন্ত করে নেন। 

বাংলার আনাচেকানাচে লোকসংস্কৃতির উপর নির্ভর করে যে, সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে তা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিকট বারবার আলোচনা করা উচিৎ। সময়ের সম্মুখীন হ‌ওয়ার আগেই, একটা নির্দিষ্ট পথরেখা খুঁজে নিতে হবে। শুধু, হাত গুটিয়ে বসে থেকে দিনাতিপাত করলে চলবে না। উঠে দাঁড়ানোর জন্য একটা শক্ত সিঁড়ি দরকার সেটি প্রস্তুত না হ‌ওয়া পর্যন্ত লড়াই থামালে চলবে না। কারণ আমাদের জীবনের বৃহৎ অংশ জুড়ে লোকসংস্কৃতির ছায়া পড়ে আছে, সেটাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিকট বিশ্লেষণ ও চর্চার মাধ্যমে পরিণত করতে হবে। এর সাথে ঘটাতে হবে মানবযোগ। মানুষের জীবনের সাথে অস্তিত্বের পরিচয় করাতে না পারলে লোকসংস্কৃতির উন্নয়ন সম্ভব না। ঠিক, চর্চা না থাকলে ভরসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় আমাদের মনে যে ভাবনাগুলোর উদয় হয়, সেগুলোকে ঠিকমতো বিশ্লেষণ করে এগোতে হবে। বাংলার নিজ ঐতিহ্যের বিসর্জন দেওয়া বাঙালির অভিপ্রায় নয়। লোকসংস্কৃতিকে পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে বাঙালির অস্তিত্বের সন্ধ্যানে ডুবে যেতে হবে।

‘প্রকৃতপক্ষে জীবনঘনিষ্ঠতা ও সমাজসংলগ্নতা বাংলার লোকসংস্কৃতিতে একটি জীবনবাদী ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করেছে।’³ আমরা জানতে পেরেছি, আমাদের সংস্কৃতির সাথে আদি সত্তার মেলবন্ধন জন্ম-জন্মান্তরের চিরায়ত রূপ। কালের খেলায় মত্ত হয়ে তা আমরা ভুলে যেতে বসেছি‌। কিন্তু সেই বিষয়টিকে আধুনিক সংস্করণ করার ধারণাটাও ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। দেখা যাচ্ছে, পরবর্তীতে বাংলার আদিম সংস্কৃতির রূপান্তরের ফলে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আমরা এ সম্পর্কে আরও খুঁটিনাটি তালাশ করে দেখতে পারি, লোকসংস্কৃতির রুপান্তরের ফলে একদিকে নতুন প্রজন্ম যেমন আকৃষ্ট হচ্ছে, ঠিক অন্যদিকে সংস্কৃতির মূলধারা ক্রোমে ক্রোমে আক্রান্ত হচ্ছে। তার কারণ হিসেবে সংস্কৃতির প্রতি উদাসীনতাকে দায়ী করা যেতে পারে। নতুন প্রজন্ম তার ফল ভোগ করেছে মাত্র। এটি আমাদের মনে রাখতে হবে। বাঙালির ইতিহাস বিশ্লেষণ করতে গেলে লোকসংস্কৃতির অন্তরাত্মার গভীরতার দিকে লক্ষ্য রাখতে হয়। লোকায়েত চর্চা বাঙালির প্রাণের স্পন্দন জাগিয়ে তোলে। বাঙালি যদি চিরকালীন মিলেমিশে একাকার থাকতে চায় তো লোকসংস্কৃতির চর্চার প্রয়োজন অত্যাধিক। এর ফলে আগামী প্রজন্মের জন্য কিছুটা হলেও লোকসংস্কৃতির উপর ভরসা পাওয়া যাবে।
______________
 ১. সংস্কৃতি-কথা— মোতাহের হোসেন চৌধুরী/ হাওলাদার প্রকাশনী— পৃষ্ঠা ১৭
 ২.বাঙালির দর্শন — প্রফেসর ড. রামদুলাল রায়/ উপমা প্রকাশন, জানুয়ারি ২০১১ , পৃষ্ঠা ৬৩
 ৩. লোকসংস্কৃতির বাংলা, আবুল আহসান চৌধুরী/প্রথম আলো, ১৪ এপ্রিল ২০২১ 
 ৪. আলোর পথযাত্রী — সম্পাদনা: আবুহেনা মুস্তফা/ উলিপুর লোকজ উৎসব পরিষদ, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
x



[ ‘নবভাবনা’ পত্রিকার পুষ্পসংখ্যা, সংখ্যা ২২, ৫বর্ষ, জুন-জুলাই ২০২৪ প্রকাশিত হয়েছে ]

Post a Comment

0 Comments