বাংলা সাহিত্যে সাময়িক কবিতা আপেক্ষিক নয়! বরং কবিতার হৃৎপিণ্ড নিংড়ানো ধ্বনির অস্থি মজ্জা ও নানা উপকরণসমূহের ভেতর ক্লেদ, ঘাম আর রক্তের স্পন্দন তীব্র হয়ে ওঠে! এই স্পন্দন শুধুমাত্র কবিতার ভাষা কিংবা উপমা দিয়ে বোঝানো নয়! একটি সামগ্রিক ভাবনার সন্নিবেশিত প্রকরণমাত্র। কিছু কিছু আধুনিক কিংবা উত্তরাধুনিক কবিতার বৈশিষ্ট্য বর্তমান সাময়িক সাহিত্য সৃষ্টিতে একধরণের মোহ কাজ করে— আর যারা মোহমানবের দল তারা এইসব লুফে নেয়। সেগুলি মুষ্টিমেয় কালোত্তীর্ণ কবিতা হতে পারে। ব্যাস-বাল্মিকী থেকে শুরু করে কোলরিজ, এলিয়ট, রবার্ট ফ্রস্ট, সিলভিয়া প্লাথ কিংবা ভারতীয় উপমহাদেশের বর্তমান সময়ের কাব্যসাহিত্য পর্যন্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়; প্রত্যেক কবিই প্রথাগত নিয়মের বাইরে গিয়ে করুণার আবরণ সৃষ্টি করেছেন। কবিতার জন্মকাল থেকে ব্যাপ্তিকাল পর্যন্ত যে ধারাবাহিক পর্যালোচনা উপকরণসমূহকে নতুনত্ব দান করেছে এবং পাঠক সমৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে তা শুধুমাত্র কবির মানস চেতনার উৎকর্ষ বা ফলাফল মাত্র নয়! বরং সামগ্রিক চেতনার সম্পর্ক তৈরি করে। যখন কবিতার বই নিয়ে আলোচনা করা হয়, তখন কবিতার সামগ্রিক বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য না দিয়ে কিছু মুষ্টিবদ্ধ কবিতা নিয়ে আলোচনা করা যাক; সমকালীন কবিতায় বাঙালির যে খুব একটা লাভ হয়েছে তা নয়! কিন্তু কবিতার ভূগোল যে পাল্টাচ্ছে তা অস্বীকার করব না।
পাবনায় জন্মগ্রহণকারী গোবিন্দলাল হালদারের কবিতা নিয়ে আপনার আমার সাথে খোস-গল্প চলতেই পারে কিন্তু কবিতা যখন স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং বিশ্লেষণের আবদার রাখে, তখন ভিন্নচোখে তাকানো ছাড়া উপায় থাকে না। তবে ভালো-মন্দের বিশ্লেষণকে রক্তমাংসের পুঁজ দিয়ে ঢেকে দেওয়া একেবারেই উচিত নয়! আমরা দুঃখ-আনন্দের দাস, পরিবর্তনশীল, বর্ধিষ্ণু ও উষ্ণ অনুভুতি ইত্যাদির সৎ সঙ্গ করতে পারি কিন্তু কবিতায় যে অবৈকল্য কালজ্ঞানের সারমর্ম লুকিয়ে আছে তাকে তো মূল্যহীন বলা যায় না। গোবিন্দলাল হালদারের কবিতার ভাষা সাময়িক কাব্যভাষা; এখানে উপমাই একমাত্র প্রাধান্য। জীবনানন্দ দাশও একই কথা বলেন, উত্তরকালের কবিতার গঠনপ্রকৃতি, ভাবপ্রকৃতির সম্মিলন যে স্বাতন্ত্র্যধারা সৃষ্টি করেছে গোবিন্দবাবু সেই ধারার একজন সচেতন কবি। কিন্তু তার কবিতার গভীরতা বিশ্লেষণ করলে অধিকাংশ কবিতার ক্ষেত্রে শব্দজাল এতটাও গভীর বলে মনে হয় না! বরং রসবোধের প্রয়োজনীয় উপমা সৃষ্টিতে যে তিনি পটু তা কবিতাগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায়।
বর্ণালী মাছ। জলীয় ভূগোল পাঠে
পানকৌড়ি ভয় লালন করে বিদগ্ধ অন্তরে
তবুও সুদক্ষ শিকারীরা নদী তীরে যায়। ( জলে থাকে বর্ণালী মাছ/ গোবিন্দলাল হালদার)
এই লাইনগুলো খুঁড়ে খুঁড়ে বেদনার একরাশ তুলে ধরা যাক; যে মাছগুলোর জলে থাকার কথা, জল যার ভূগোল, মানচিত্র তাকে ডাঙার ভয় দেখিয়ে শিকার করে, এখানে পানকৌড়ি বিমূর্তভাব সুদক্ষ শিকারী তো মানুষ; সুদক্ষ কায়দায় ডাঙায় তুলে আনে, তখন মাছেদের দল মৃত্যুর ভিসা পেয়ে যায়।
পুরোহিত কবির এইসব কথা বলার আয়োজন প্রাসঙ্গিক কিছু ভাবনার সরল-জটিল সম্মেলন কিন্তু যদি এখানে মাছেরা বিদ্রোহ করতো কিংবা উচ্ছিষ্ট সমাজের দীর্ণ, জীর্ণ কাল যাপনের প্রসঙ্গ থাকতো তবে সেটি গগনভেদী কবিতা হয়ে যেত। কিন্তু প্রত্যেক কবির বলবার একটি নির্দিষ্ট জায়গা থাকে —সেখানে তিনি ইচ্ছামত যা বলবার তা ঠিক করেন, তার মধ্যে বাহ্যিক কিংবা অভ্যন্তরিক ছায়া পড়তে পারেনা। এটি আমি বিশ্বাস করিনা। কিন্তু এটিও ঠিক! শিল্পীর স্বাতন্ত্র্যের অধিকার স্বীকার করা যায় কিন্তু সাহিত্যে স্বাতন্ত্র্যের অধিকারহরণ করার দিন সমাগত; এখন কবিতার ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য নয়! একদিন আধুনিককালের কবিরাই এ প্রসঙ্গ এনেছিল, এখন তার সুবিধাভোগী বর্তমানকালের কবিতাপিপাসু পাঠকেরা; তারা কবিতাকে ছিঁড়ে খুঁড়ে অণু-পরমাণু পর্যন্ত গুনে গুনে দেখতে চায়! নিজের মতো বিশ্লেষণের সুযোগ চায়! কবির শৃঙ্খলাবোধ তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে একঝাঁক শব্দের পর্যালোচনায় ভরিয়ে দিতে চায়।
আমরা যদি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কথা ধরে নিই, ‘কবিতা কবির পূর্বপুরুষ, কবি কাব্যের জন্মদাতা নয়—’ তাহলে বিষয়টি কি দাঁড়ালো?… কবিতার সংসার করতে এসে, তাকেই যদি পর করে দেওয়া যায় ( অবশ্য পরও বলা যায় না) তখন কবিতা বিষয়ে সাময়িক সাহিত্যের কবিদের কি মন্তব্য থাকতে পারে? সেটি নিয়ে না হয়, আরেকসময় আলোচনা করা যাবে। ‘একটি নিসিন্দা পাতার ঘুম’ বইয়ের কবি গোবিন্দলাল হালদার বলেন, ‘উত্তরাধুনিকতা, আমার ইচ্ছার ফল’ যদি তাই হয়, তাহলে প্রশ্ন আসে, সব ইচ্ছাই কি উত্তরাধুনিকতা হতে পারে? না, এক্ষেত্রে পূর্বের কথাগুলো মনে রাখা দরকার, হ্যাঁ! স্বাতন্ত্র্যের অধিকারহরণ! কথাটির সাথে সামঞ্জস্য পাওয়া যাচ্ছে কি? একটু অসুবিধা হচ্ছে, কিন্তু এই অসুবিধার কথাগুলোই আধুনিককালের কবিরা কত আগে বয়ান করে গেছেন আর সেগুলো নিয়ে আমরা এখনো পড়ে আছি। অথচ এসব নিয়ে আলোচনার দরকার নেই বললেই চলে, এক কথায় বলা চলে, সব ইচ্ছা উত্তরাধুনিক নয়! কিন্তু সমস্ত অতীন্দ্রিয় চিন্তায়ই উত্তরাধুনিকতা হতে পারে। সেজন্য উত্তরাধুনিকতা নিশ্চয়ই ইচ্ছার ফল; সেটি হালদার মশাই নোনতা জলের গর্ভে দেখেন, এই দেখা শাস্ত্রবিরোধী দেখা একই; হাংরি আন্দোলনের কবিরাও একই পথ বেছে নিয়েছিলেন। বুদবুদের প্রতিচ্ছায়ার মধ্যে কবিতা জন্মাবে, নোঙরা জলাশয়ে, অগাধ জলের ভিতরে তারই ছবি এঁকে চলেন উত্তরাধুনিক কবিরা।
পোস্টমর্টেমের সময় তুমি যদি উৎসুক থাকো, দেখতে চাও।
লাশকাটা ঘরের রৈরব দৃশ্য-দৃশ্যান্তর। তবে পাথর গুরুর অশ্রু
নিবারণ মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে যেয়ো। হার্ট এ্যাটাক ইদানীং
মামুলি রোগ। (পোস্টমর্টেমের সময় তুমি যদি উৎসুক থাকো/ গোবিন্দলাল হালদার)
মূলকথা কবি নিজেই নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন! মৃত্যু যেমন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, তেমনি জন্মও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু মৃত্যুর পরমুহূর্তে পোস্টমর্টেম একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা বলতে পারেন! এই ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা কিছু মানুষের দেহকে মামুলি করে নিয়েছে। কবি এখানে উৎসুক, মহাকাল অথচ কঠোর! অবলোকন করতে চান, নির্মম শরীর, চাকুর আঘাতে ক্ষতবিক্ষত লাশ! কিন্তু তা শুধু একটি আশামাত্র! যা শেষের পঙ্ক্তিমালা লক্ষ্য করলেই বোঝা যায়। শুধু কষ্টের পিনপতন ঘটানো নয়! বরং কবিতার অভ্যান্তরীণ বিষয়সমূহকে টেনে আনলে সাম্যবাদী, বৈষম্যহীন সমাজ চেতনা ও সংস্কৃতির প্রসার চোখে পড়ে। যেমন— বর্তমান অগোছালো সমাজের পোস্টমর্টেম জরুরী হয়ে পড়েছে; কবিতার মধ্যদিয়ে এইসব সংস্কৃতির ধারকেরা জেগে উঠুন, কবিতা প্রখর হোক।
গোবিন্দলাল হালদারের কবিতার দৃষ্টিভঙ্গি, বিষয় বৈচিত্র্য, সমাজ-সংসার, প্রেম-বিচ্ছেদ, জলবায়ু, মনস্তাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক বিষয়ের ধারাকে বহন করে। তার শব্দশৈলী এতটা প্রখর যা পাঠককে বারবার ভাবতে সাহায্য করে। তিনি পাঠকদের উদ্দেশ্যে একটি কবিতায় বলেছেন...
আমি এবার চলে যাব তাদের কাছে
যারা অনুভূতির শব্দে কথা বলে। (শব্দাঙ্কুর রং প্রজাপতির ডানায়/ গোবিন্দলাল হালদার)
পাঠকের মাঝে তিনি সূক্ষ্ম অনুভূতি জাগাতে চান। শব্দলিপি কবির একমাত্র শক্তি। শব্দের যাপিত সংসারে পান্ডুলিপির খাতা বয়ে বয়ে সমাজে বাল্মীকি চেতনার উন্মেষ ঘটানো কবিদের সবচেয়ে বড় অবদান বলতে পারি। আর সেই অনুভূতিকে কেন্দ্র করেই তিনি আবার ‘উপলব্ধির গান’ —এ বলেন... ‘অনুভূতির স্রোত জল জমা হলে হয় উপলব্ধি’ সাধনায় উপলব্ধিই সত্য! সাধকের চেতন মনের ব্যাপ্তিই সত্য। উপলব্ধির চরম সীমা লক্ষ্য করে কবি যখন চলতে চান, তখন পুরো পৃথিবীর প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় সমস্ত বিষয় নিয়ে তাকে ভাবতে হয়, লিখতে হয়, কোন কিছুই তার কাছে ফেললা নয়! সমুদ্র মন্থনে যেমন বিষ উঠে আসে, তেমনি অমৃতও উঠে আসে।
কবি আধ্যাত্মিকতার মানুষ; আধ্যাত্মিক কার্যাবলী সম্পাদন তার জীবনের অন্যতম উদ্দেশ্য! যতদূর জানি, তিনি গুরুগিরিও করেন। তাই তার কবিতায় আধ্যাত্মিকতা আসবে না তা কি হয়! ‘নৈঃশব্দের অমিয় গান’ গ্রন্থের ‘ডুবের বিধান’ কবিতায় তিনি নিজেকে আধ্যাত্মিকতায় উপস্থাপন করেছেন, আলোর মধ্যে তিনি ডুব দিতে চান, আলোর নদী, সে আধ্যাত্মিকতার নদী নিজের দেহমধ্যস্থ ইরা, পিঙ্গলা, সুষুম্না বা গঙ্গা, যমুনা, সরস্বতী’র ত্রি-মোহনায় তিনি রাজহংস ( হংস অর্থে জ্ঞানী)। রহস্যাবৃত্ত ভবজলধি পাড়ি দেওয়ার মতো যোগ্য করে— উজান স্রোতে যেতে চান কিন্তু ভেসে যান কামস্রোতে। —এই কামনায় অন্ধকার, তিনি অন্ধকার থেকে মুক্তি চান।
মহাকাশের বাটি
দেহতত্ত্ব। ( গতানুগতিক তথ্য বিভ্রাট/ গোবিন্দলাল হালদার)
জন্ম-জন্মান্তর রহস্য নিয়ে পুরাণকার পূর্বে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, সাময়িক কালের হালদার মশাই তাকেই কবিতার উপজীব্য মনে করেন, ‘গতানুগতিক তথ্য বিভ্রাট’ কবিতায় তা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। সেখানে জন্মান্তরবাদের কথা এসেছে। কিন্তু এইসব কথার পরও কবি তথ্য বিভ্রাট নিয়ে কথা বলেন। কারণ সবটাই যে সত্য তা দৃষ্টিগোচর হয় না বিধায় কবি সত্যের সন্ধান বিশ্বাস করেন।
‘পুনর্জন্মের অঙ্কুরিত বীজ’ কবিতায় যাপনের উদ্দেশ্য ব্যাহত; সবাই প্রতিযোগী, ব্যক্তিত্বের অধিকারী হতে চায় কিন্তু সবাই কি পায়?... এ প্রশ্নের উত্তর নেই। যারা ঊর্ধ্বে উঠে যায় তারা নিচে নামে না, ঈর্ষা করে, যারা চিরকালই নিচে থাকে তারা জীবনের মানে বুঝে, আলো বাতাস মাটি ও জলের ভূগোল পাঠের দুঃখ-বেদনার শেষ নেই; সুখও ক্ষণিকের জন্য কিছুই চিরকালের জন্য নয়। তাই কবি পুনর্জন্মের অঙ্কুরিত বীজ বুকে রাখেন। কালিদাস থেকে রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত পুনর্জন্মের ভূত মাথায় চেপে রেখেছিলেন— কিন্তু এর স্পষ্ট ধারণা দিতে গিয়ে সকলেই সৃষ্টির বৈচিত্র্যতা নিয়ে মেতে উঠেছেন। তখন মনে হচ্ছিল, কেউ একজন কেন্দ্রের দিকে টানছেন আর আমরা ছিটকে যাওয়ার ভয় করছি।
‘চন্দ্রবিন্দুর ঘাম’ কবিতায় আমরা একই প্রসঙ্গ দেখতে পাই; কবিতার উপাদানগুলো এক, চিন্তা এক, ভাবনা এক কিন্তু একই বইয়ে একই প্রসঙ্গ বারবার টানার প্রয়োজন মনে করি না। কবি হালদার মশাইয়ের, একটি লাইন চোখে পড়ল, ‘বিসর্গ বিলায় চন্দ্রবিন্দুর ঘামে—’ চন্দ্রবিন্দু গর্ভচিহ্ন বা জন্মের প্রতীক আর বিসর্গ স্থিতির প্রতীক। বিসর্গ (ঃ ) থেকেই চন্দ্রবিন্দু ( ঁ ) অথবা চন্দ্রবিন্দু থেকেই বিসর্গ। জন্ম ও স্থিতির প্রসঙ্গ। অনুস্বার (ং) বিষয়টির সংযোজন হলে, মৃত্যুর প্রসঙ্গটিরও আলোকপাত হতো— এতে করে বিষয়টির মর্মার্থ আরও প্রাসঙ্গিক হতো। শেষের পঙ্ক্তিমালার ‘কালপুরুষ’ অর্থে যা বোঝাতে চাচ্ছেন তা স্পষ্ট নয়!
.............
‘স্পর্শ প্রতীক এবং আদিপিতা’ কবিতায় তিনি অনেকগুলো স্পর্শের কথা বলেছেন, স্পর্শের শ্রেণীবিভাগ করেছেন, অনুভূতির চিরন্তন সত্যকে আলাদা ব্যখ্যার উপযুক্ত মনে করেন, উদাহরণস্বরূপ: আগুনের স্পর্শ তাপ, বরফের স্পর্শে ঠান্ডা, শীতের স্পর্শে কাঁপন, প্রেমিকার স্পর্শে শীতলতা, বৈদ্যুতিক স্পর্শে শক ইত্যাদি স্পর্শ থেকে স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে চমৎকার কবিতাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে পাঠক কথা বলবেন। শুধুমাত্র কতকগুলো স্পর্শই কি কবিতার উপাদান হতে পারে? অবশ্যই! তা হালদার মশাইয়ের কাব্য প্রতিভার উদাহরণ।
পৃথিবীতে যখন যুদ্ধ-বিগ্রহ, রক্তারক্তি, ধর্ষণ, হানাহানি চলছে তখন একজন কবি নিভৃতে যতনে কবিতার পঙ্ক্তি আওরাচ্ছেন; বিষয়টি যতটা না সহজ তার চেয়েও বাস্তবতার নিরীক্ষা কতটা ভয়ঙ্কর সেটি বলার অপেক্ষা রাখি না। কবিতায় দ্রোহ-বিদ্রোহ, প্রেম-বিচ্ছেদ থাকবে এটি স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু কবিতা যখন জনমানুষের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায় তখন কিন্তু কবি-কবিতা, মানুষ ও চরাচর সবমিলে একাকার হয়ে যায়। পুরোহিত কবির কবিতার প্রাসঙ্গিকতা সম্পর্কে আমার মতো ক্ষুদ্র পাঠকের পর্যালোচনা হয়তোবা নতুন কিছুই দেবে না কিন্তু ভাবনার জগতে আবারও কবিকে আমন্ত্রণ জানাবে— এটিই আমার প্রাপ্য হতে পারে।

0 Comments